অবহেলার প্রিয় পানি
পানি........
কি অন্য রকম একটা জিনিস।
খাবার না খেয়েও কয়েক দিন থাকা যাবে। কিন্তু পানির পিপাসা পেলে.......
সম্ভব না
বাদশা হারুনুর রশিদের একদিন খুব পিপাসা পেয়েছিল।তখন পানি পান করার সময় হযরত বাহলুল (রহ বললেন, "বাদশা,একটু ধীরে পান করেন। আগে পানির দাম কত সেটা হিসাব করে নেই।"তো তিনি তখন বললেন,"মনে করেন,পুরো পৃথিবীতে এই এক গ্লাস পানি ছাড়া আর কোনো পানি নেই।পানির মালিক বললেন এই পানি পান করতে হলে আপনাকে আপনার অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে দিতে হবে।অর্থাৎ,এই এক গ্লাস পানির মূল্য আপনার অর্ধেক রাজত্ব। তখন আপনি কি করবেন?পানি পান করবেন?"
বাদশা তখন অনেক চিন্তা করে যে,রাজত্ব তো পাওয়া যাবে কিন্তু পানির অভাবে জীবনটাই যদি না থাকে তবে রাজত্ব দিয়ে কি হবে। বাদশা বললেন তিনি অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে হলেও নিজের পিপাসা আগে নিবারন করবেন।
অবশ্য সেরকম পিপাসায় কোনো দিন পড়লেই বুঝবো আমরা।
বুখারি শরিফে আছে,হাশরের ময়দানে ৫০০বছরের ইবাদত দিয়ে এক গ্লাস পানি কিনে খেতে চাইবে মানুষ।
তাহলে চিন্তা করুন পিপাসা কি মারাত্মক জিনিস।
কত মানুষ পিপাসায় মারাও গেছেন।
আরবিতে একটি কিতাব আছে হজ্বে যাওয়ার পথে কত বাদশা, হাজ্বি পিপাসায়, ক্ষুধায় মরুভূমির মাঝে মারা গিয়েছে তাদের জীবনী নিয়ে।
এই যুগে আমরা তো সেরকম কিছু দেখতেই পাই না। বুঝবো আর কি করে।নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে থেকেও রমজান মাসে ঐটুকু তাপ নিতে পারি না। ঘরের মধ্যে ঢুকে থাকি সারাদিন।আর তাদের তো মাইলের পর মাইল মরুভূমি দিয়ে যেতে হতো।
পানির প্রয়োজনটা শুধু পিপাসার বেলায় বোঝা যায় তেমন নয়।যখন বাথরুমে শুধু হাফ বালতি (১২লিটার)পানি নিছি।টেংকির পানি শেষ,বিদ্যুৎও নেই।এখন এই হাফ বালতি পানি দিয়ে কাপড় ধুতে হবে,গোসল করতে হবে।কিভাবে করবো.....
এমনিতেই তো এই দুটো কাজ করতে ২৫+২৫=৫০লিটার পানি লাগে বা তারও বেশি।কিন্তু যেদিন ঐ সমস্যায় পড়বো সেদিন কিন্তু ঐটুকু পানি দিয়েই সব করবো।
হ্যা,পারবো অবশ্যই।সবাই পারবে।
কিন্তু আমরা তো তা অন্য সময় করতেই পারি না।পানির বিষয়ে তো আমাদের কোনো গায়েই লাগে না।
পানি পড়তেছে পরুক, নোংরা হচ্ছে হোক আরো তো আছেই,গোসল করতেছি তো করতেছিই,বাসন পরিষ্কার করতেছি তো করতেছিই। চলছে তো চলছেই।
কারো কোনো গুরুত্ব নেই।আশপাশের বেশিরভাগ বাড়িতেই দেখি টেংকি ভর্তি হয়ে পানি পড়ছে তো পড়ছেই।পুরো রাস্তা পানি দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সুইচ অফ করার হুঁশ থাকে না।
এমনই আমরা
পানির দাম তো বুঝি না। সমস্যা নেই।শীঘ্রই আল্লাহ বুঝিয়ে দেবেন। হাশরের ময়দানে।
দুনিয়াতে তো অনেক শিক্ষা অর্জন করে আমরা অনেক জ্ঞানী মানুষ হয়েছি।ঐ শিক্ষাটুকু না হয় হাশরের ময়দানের জন্যই তোলা থাক।
দুনিয়ায় তো অনেক নেকি অর্জন করেছি।আমাদের আর কি সমস্যা।নেকি বিক্রি করে ঐ দিন না হয় পানি কিনে খাবো।আরো বাকি নেকি গুলো দিয়ে জান্নাতেও যাবো।কম তো ভালো কাজ করছি না।নেকির তো অভাব নেই।
এমনই আমরা..
Comments (1)